কলেজ প্রতিষ্ঠার পটভূমি

ভবনসহ কলেজ চত্বর

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ একটি ঐতিয্যবাহী প্রাচীনতম জনপদ। ১৮২৮ সালে পাবনা জেলা স্থাপিত হলেও সিরাজগঞ্জ তখন ময়মনসিংহ জেলার অধীনে ছিল। ১৮৫৫ সালে যমুনা নদী দিক পরিবর্তন করায় সিরাজগঞ্জ থানা পাবনা জেলার সাথে সংযুক্ত হয়। এরপর ১৮৮৫ সালে সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরের মর্যাদা লাভ করে এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তরিত হয়। এখানে সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, মুন্সী মেহেরুল্লাহ, যাদব চক্রবর্তী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, রজনীকান্ত সেন, ঈশান চন্দ্র রায়, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন, অমূল্যনাথ লাহিড়ী, জিএম হিলালী, আবু ফজলে লোহানী, উপেন্দ্রনাথ অধিকারি, সাহিত্যিক বরকতুল্লাহ, মকবুলা মঞ্জুর, ড. মাযহারুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল-মুতি শরফুদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ প্রমুখ গুণী ব্যক্তিবর্গের জন্ম হওয়ায় শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সেসময় নারীশিক্ষার অগ্রগতির জন্য কোনো কলেজ না থাকায় ১৯৬৬ সালে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর হাজী আহমদ আলী সাহেবের পুত্র আলহাজ্ব শামসুজ্জোহা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় রাশিদাজ্জোহা গার্লস কলেজ নামে একটি কলেজ স্থাপন করেন। পরবর্তীতে কলেজের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় দানবীর মো. মফিজ উদ্দিন তালুকদার ও মো. মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং স্নাতক পর্যায়ে বিএ, বিএসএস, অর্থনীতি, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিভাগসহ সাতটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে এখানে আরও কয়েকটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। ১৯৮৪ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে এ কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এ কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন। সরকারিকরণের সময় মিসেস মোসফেকা বেগম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রীনিবাস

রাশিদাজ্জোহা সরকারি মহিলা কলেজে মনোরম পরিবেশে একটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। উক্ত ছাত্রীনিবাস কলেজ ক্যাম্পাস থেকে সামান্য দূরে যাদব চক্রবর্তী রোডে অবস্থিত। বর্তমানে হোস্টেলে ৮৪ টি সিট রয়েছে । হোস্টেলে বর্তমানে ২১ টি কক্ষ, ১টি ডাইনিং ও ১টি বৃহৎ কমন রুম রয়েছে। ছাত্রীনিবাসটি একজন হোস্টেল সুপার, একজন সহকারি হোস্টেল সুপার, দুইজন সিকিউরিটি গার্ড, দুইজন বাবুর্চি ও দুইজন সুইপার দিয়ে পরিচালিত হয়। ছাত্রীনিবাসের সার্বিক কার্যক্রম অধ্যক্ষ মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালিত হয়।