প্রফেসর সুলতানা সালমা হোসেন
অধ্যক্ষ
বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এদেশের মাটি যেমন উর্বর তেমনি উর্বর মানুষের মননশীলতা ও চিন্তার জগৎ। ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনীতির দিক থেকেও এদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত অর্থে এটি সৃষ্টিকর্তার আর্শীবাদপুষ্ট স্থান। এখন শুধু প্রয়োজন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় যথাযথ বিনিয়োগ। ঐঁসধহ জবংড়ঁৎপব উরারফবহফ এর নিয়মানুযায়ী এদেশে আগামী ২০-৩০ বছর কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ঈর্ষণীয় পর্যায়ে থাকবে। সঠিক পরিকল্পনা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে এঁদের মানবসম্পদে পরিণত করা হলে এটি প্রকৃত অর্থে পরিণত হবে গর্বিত বাংলাদেশ। পৃৃথিরীর অধিকাংশ কল্যাণমূলক রাষ্ট্রেই জন্মহার ঋণাত্মক। তাদের রাষ্ট্রীয় পরিকাঠমো টিকিয়ে রাখতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর দক্ষ জনবল প্রয়োজন। সুতরাং এখনই আমাদের জেগে উঠবার উপযুক্ত সময়। আর সে-লক্ষেই বর্তমান সরকার নিরন্তর শিক্ষাদানের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের কাজটি করে যাচ্ছেন। শিক্ষা সমাজের প্রয়োজনে একজন মানুষকে প্রস্তুত মানুষ হিসেবে তৈরি করে। পুঁজিবাদী দুনিয়া পারস্পারিক সহযোগিতার নয়, মারমুখী প্রতিযোগিতার। প্রশিক্ষিত মানুষ দেশের সম্পদ যা একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক চাহিদার নিরিখে এদেশের বিশাল জনসংখ্যা মোটেই বোঝা নয় বরং সম্পদ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবী। সৃষ্টিশীল সত্বা জাগরণ ঘটাতে, সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করতে এবং মেধাকে শাণিত করে জ্ঞানের নতুন নতুন ধারণা ও প্রয়োগসহ শিক্ষাব্যবস্থাপনায় হালনাগাদ তথ্যসম্মৃদ্ধ করতে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবে সরকার নারীশিক্ষার প্রতি ব্যাপক গুরত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে নারী-পুরুষের সমতাবিধানের নানা পরিকল্পনা একটি মহৎ ও অনন্য সম্মিলনের দৃষ্টান্ত। তবে শিক্ষাক্রম, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, ক্যারিয়ার প্লানিং ও নানা বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান বিস্তরণে শিক্ষকগণকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।
ভর্তি নির্দেশিকা প্রণয়নে মনিটরিং কমিটির প্রাণবন্ত কর্মতৎপরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁদের একাগ্রতা, দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব আমাকে বিস্মিত করেছে। তাঁদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা আমার পরম সুখের অনুভূতি। এ জীবনে কুড়াতে কুড়াতে হারিয়ে যায় অনেক কিছুই, স্মৃতি হারায় না। ২০২৪ সালের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। চতুর্থ শিল্পবিপ্ল­বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাঁরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক এ কামনায়।